খেরোখাতা পর্ব ৩

  • 0

মাঝে ক'দিন খেরোখাতা লেখা হয়নি, কারনটা বলেনি আগে। job, class, পড়াশুনা এই সব সামলিয়ে লিখতে হচ্ছে। লেখার জন্য আবার পড়াও লাগছে। কাজের ফাকে, ক্লাসের ফাকে টুকটুক করে কলম পিষছি। "পিষছি" বানানটা কি ভুল হলো? মনে করে একসময় অভিধান দেখে নিতে হবে। অভিধান কথাটা লেখার পরে বুঝলাম এই ভাবে কি আমরা কথা বলি। কজন dictionary কে অভিধান বলেন। আমাদের ভাষা হয়ে গেছে বাঙ্গালী জাতির মতোই শংকর। শুধু শংকর বললে ভুল হবে বলা উচিত মহা শংকর। পাঠকেদের একটি বিষয়ে পরিস্কার করে বলি, আমি কোনো সাহিত্য রচনা করতে বসিনি, আর এই লেখাগুলো একান্তই নিজের ভাবনাগুলো কে জানানো ছাড়া আর কিছু না। তাই ভুলভাল থাকবেই। মানুষ তার এই ক্ষুদ্র জীবনে যা সবছে বেশি করে সেটা হলো "ভুল"। 

প্রতিটি মানুষের জীবনই ভুলে ভুলে ভরা। এটা নিয়ে তর্ক চলতেই পারে। কিন্তু এটা আমার ব্যাক্তিগত মত। অরুদ্ধন্তি রায় বলেছিলেন যে গড অব স্মলথিং লিখে বিরাট ভুল করেছেন। পাঠকদের আগে ভাগেই জানিয়ে রাখি এই উক্তির পেছনের গল্প কিন্তু অন্যরকম। সে প্রসঙ্গে পরে একদিন লিখবো। কাল পড়ে শেষ করলাম হুমায়ূন আহমেদের বাদশাহ নামদার। এক হুমায়ূনের কাহিনী আরেক হুমায়ূনের বর্ণনায় পরে বেশ ভালো লাগলো!
কবিতা লেখা যায় এইরকম পরিবেশে বসে লিখছি। আমার জানালা দিয়ে এক ফালি চাঁদ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কবিতা লেখার মতো ভাব মনে উদয় হচ্ছে না। তাই এই গদ্যের অবতারনা। কফি খাচ্ছি। কফির রেসিপিটা দিয়ে ফেলি এই ফাকে। গ্রাউন্ড বিন কফির সাথে খুবই হালকা পরিমানে ক্রিম (ডাক্তারের নিষেধ আছে বেশি পরিমান ডেইরী প্রোডাক্ট খাওয়া যাবে না। শরীরে নাকি খারাপ cholesterol এর অনুপাত বারতি)। 
অল্প কয়েক ফোঁটা ভেনিলা সিরাপ। প্রচন্ড গরম করে পরে আস্তে আস্তে ঠান্ডা করে খেতে হবে। আমি আগুন গরম কফি খেতে পারি না। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি projects শেষ করলাম। আরাও কিছু বাকি আছে যা পরে ধীরে ধীরে করা যাবে।
টিভিতে লাইভ অনুষ্ঠান দেখা বন্ধ করে দিয়েছি সে বেশ অনেক আগে। এতো এতো অ্যাডভার্টাইজমেন্ট এর ফাঁকে কোনো কিছু দেখে শান্তি নাই। আমেরিকান লাইভ টিভি তো আরো দেখি না। নিরপেক্ষতা বলে এদেশের টিভিতে আসলে কিছু নাই। বলতে দ্বিধা নেই যে পারত পক্ষে টিভির program গুলো দেখা হয় অনলাইনে। কি বাংলা, ইন্ডিয়ান, আর আমেরিকান সব programই এখন হাতের আংগুলের ক্লিকে চলে এসেছে। Legal অথবা illegal কোন সংগায় ফেলবো সেটাও বুঝে ওঠা অনেক কঠিন। "Monolopy of the media is like watching "an endless cocktail party where people are carrying thier drinks from one room to the next." - arundhati roy.
আমেরিকান মিডিয়ার বেলাল্লাপনার একটি উদাহরন দেই; অরুন্ধতী রায় বলছেন; “...Well, I was invited to be on The Charlie Rose Show. He said, “Tell me, Arundhati Roy, do you believe that India should have nuclear weapons?” So I said, “I don’t think India should have nuclear weapons. I don’t think Israel should have nuclear weapons. I don’t think the United States should have nuclear weapons.” “No, I asked you do you believe that India should have nuclear weapons.” I answered exactly the same thing. About four times… They never aired it!”
কলকাতায় আমার এক বন্ধু থাকেন তিনি একবার জিজ্ঞাস করলেন আমার কি বিষয়ে লিখতে ভালোলাগে। আমি বলেছিলাম যা পড়তে ভালোবাসি তা নিয়ে লিখতেও ভালোবাসি। সেটা হলো ‘বই’।  
বই নিয়ে লেখার আনন্দই অন্যরকম। জীবনে প্রথম কারও ব্যাক্তিগত সংগ্রহে প্রচুর বই দেখেছিলাম সে অনেক আগে। দেখে খুবই অবাক হয়েছিলাম যে এত এত অগোছালো বইয়ের স্তুপ থেকে কি অনিমেষে একটার পর একটা বই বইএর কর্তা বেরকরে দিচ্ছে। এটা অনেকটা ম্যাজিকের মতো। বই দেখা যে একটা আকর্ষনীয় বেপার সেটা বুঝেছিমাল স্কুলে পড়বার সময়। মুঈদ সুমন দা’র বাড়ি যেতাম সময়ে অসময়ে তার বইয়ের জগৎ ছুঁইয়ে দেখতে। হাতের কাছে যা পেতো তাই পড়ে ফেলতো না সুমনদা। সে খুবই সাব্জেক্টিভ পড়ুয়া ছিল। বিষয় ধরে ধরে পড়তো। এবং কোন বিষয়ে একটা ভালো ধারনা নিয়ে তবেই সে থামতো। একাডেমিক শিক্ষাকে সে তেমন একটা পাত্তা দিত না। পাঠক এই ফাঁকে জানিয়ে রাখি সুমনদার সাথে আমার সম্পর্কটাই এমন ছিল যে আমি তাকে তুমি সম্মোধন করে লিখতে পারি। আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত বাঙ্গালীদের বাড়িতে যেমন বাধানো রবীন্দ্র-শরত-বঙ্কিম রচনাবলি থাকে তার বাড়িতেও তেমন ছিল। কিন্তু তার বাইরে যা ছিল সেটা হলো প্রচুর রাজনীতি বিষয়ক বই। সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন তিনি। আসলে স্বপ্ননা উনি বিশ্বাসটাকে বাস্তবায়নের পক্ষে কাজ করতেন। তার এই চিন্তা ধারা উনি ছড়িয়ে দিতেন নতুন প্রজন্মের মধ্যে। বিষয়ভিত্তিক বই কেনার অভ্যাস সেই শুরু আমার। টাকা পয়সা কামানোর মতো বয়ষ তখনো হয়নি। কিন্তু টাকা মেনেজ করার মতো বুদ্ধি হয়ে গেছে! আর সেই মেনেজ করে করে সমানে বই কেনা শুরু। এলাকার বইয়ের দোকানের নাম ছিলো নিউজ কর্ণার। ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতাম সেখানে। যে বইকেনার সামর্থ থাকতো না সেগুলো দোকানে বসেই পড়ে ফেলতাম। দোকানদার আলাউদ্দিন ভাই আমাদের মতো পুচঁকে পাঠকদের কেন যে এতো প্রশ্রয় দিতেন সে এক রহস্য। কে জানে বই পাগল মানুষরা বোধ হয় একটু রহস্যময়ই হয়। একটা সাধারন প্রশ্নের সম্মুখীন হই প্রায়ই;
এতো বই তোমার? সব পড়েছ?
হাসতে হাসতে বলি; না পড়িনি। কিছু পড়েছি, কিছু বইয়ের আংশিক পড়েছি, কোনো কোনো বই শুধু উলটে দেখেছি, আবার একই বই অসংখ্যবার পড়েছি। কিন্তু কবে কোন বইটা পড়তে ইচ্ছে করবে জানি না। এক সময় ঝোক চাপলো যে সব বই নিষিদ্ধ হয়েছে যুগে যুগে সেগুলো সংগ্রহ করা এবং মগজে ঢুঁকিয়ে ফেলা। এখনো ভাবি বই-চলচ্চিত্র এগুলো নিষিদ্ধ করার কারনের পেছনে কি যুক্তি বা মানসিকতা কাজ করে। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের একটি বই আছে নাম “নিষিদ্ধ বই”।  

সেবই থেকে কিছু অংশবিশেষ পাঠকদের সাথে শেয়ার করছি।
এবার এমন একজনের গল্প বলি, যিনি এক পরম সত্য ৩০ বছর নিজের কাছে লুকিয়ে রেখেছিলে। মৃত্যর ভয়ে সে সত্য তিনি প্রকাশিত করতে পারেন নি। জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি অপেক্ষা করেছেন তার সেই সত্য প্রকাশিত হবার। উনচল্লিশ বছর বয়সে লিখেছিলেন একটি বই। সেই বইয়ে বললেন তিনি পৃথিবী ঘুরছে সূর্যের চারপাশে। সত্তর বছর বয়সে একদম মৃত্যুর কোলে যখন আর কোনো ভয় নেই তখন তিনি চাইলেন সত্য উদঘাটিত হোক। এই মহান ব্যাক্তির নাম কোপার্নিকাস।